হাসানুজ্জামান শিমুল, বিনোদন প্রতিবেদক :
সময়ের কণ্ঠস্বর- আত্মকেন্দ্রিক শহুরে জীবনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পিতামাতার প্রতি ভালোবাসা অনুপস্থিত থাকে তথাকথিত অনেক সন্তানেরই । মা-বাবা আছেন দূরে কোন গ্রামে কিংবা বৃদ্ধাশ্রমে। অথচ এ মা-বাবা কী করেননি তার সন্তানকে বড় করার জন্য। সন্তানের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের প্রত্যাশায় কত বিনিদ্র রজনী কেটেছে। দুর্যোগের ঘটনায়, ঘোর অমানিশায় কিংবা স্যাতস্যাতে ভেজা বিছানায়। নিদারুন ভাবেই বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে দিন দিন বাড়ছে অসহায় বাবা-মায়ের সংখ্যা। এমন সামাজিক অবক্ষয় নিয়েই এবার সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর চেষ্টায় ‘এক পৃথিবী প্রেম’ চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে ৫ পিতা-মাতার বৃদ্ধাশ্রমে থাকার যন্ত্রণা অসহায়ত্বের কথা ।
গল্পের প্রয়োজনে একটি বৃদ্ধাশ্রমে এই পাঁচজন বৃদ্ধর গল্প তুলে ধরা হয়। ছবিতে দেখা যাবে এই পাঁচজনের মধ্য থেকে চারজন একসময় বৃদ্ধাশ্রম থেকে পালিয়ে যাবেন। কিন্তু পরিবারের আপনজন সহ অন্য কোথাও শান্তি খুঁজে না পেয়ে আবার তারা বৃদ্ধাশ্রমেই ফিরে আসেন।
বিজয়ের মাসের প্রথম থেকেই এসএ হক অলিক পরিচালিত ‘এক পৃথিবী প্রেম’ ছবির কাজ শুরু। ‘এক পৃথিবী প্রেম’ সম্পূর্ণ রোমান্টিক ঘরানার একটি ছবি। ছবিতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় করেছেন জীবন্ত কিংবদন্তি বিশিষ্ট অভিনয়শিল্পী পাঁচজন হাসান ইমাম, এটিএম শামসুজ্জামান, আবুল হায়াত, আমিরুল হক চৌধুরী ও শর্মিলী আহমেদ। ছবিটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে এই পাঁচজন গুনী অভিনয় শিল্পী সহ নির্মাতা, পরিচালক ও সহ কলাকুশলীদের অভিমত সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য ।
ছবিটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে এটিএম শামসুজ্জামান বলেন, ‘ছবির গল্প সুন্দর। কাজ করেও আনন্দ পাচ্ছি। অনেকদিন পর আমরা একত্রিত হলাম। এটাও ভালোলাগার বিষয়।’
শর্মিলী আহমেদ বলেন, ‘ভালো কাজের মূল্যায়নই আলাদা। সে রকম ভালো একটি কাজ হচ্ছে।’হাসান ইমাম বলেন, ‘অলিকের নির্দেশনায় এবারই প্রথম আমার কাজ করা। তার চলচ্চিত্রে বেশকিছু বক্তব্য আছে। যা গম্ভীরভাবে না বলে হালকাভাবে বলার চেষ্টা করা হয়েছে যাতে দর্শক তা গ্রহণ করতে পারে।’
আবুল হায়াত বলেন, একসঙ্গে আমার গুরু হাসান ইমামসহ আরও তিনজন বিশিষ্ট অভিনয় শিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে পারাটা ভীষণ আনন্দের। এটা এক বিরাট পাওয়াও বটে। হয়তো আমাদের কারণে কাজটা একটা বিশেষত্বও দাবি করবে দর্শকের কাছে।’
আমিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমার মিলনমেলাটাই সবচেয়ে বেশি আনন্দের। পাশাপাশি ছবির কাজও চমৎকার হচ্ছে।’‘এক পৃথিবী প্রেম’ চলচ্চিত্রের কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য রচনা করেছেন পরিচালক এসএ হক অলিক । ছবিতে চিত্রনায়িকা আইরিনের বিপরীতে অভিনয় করছেন নবাগত নায়ক আসিফ।রিয়াজ ও পূর্ণিমাকে নিয়ে ‘হৃদয়ের কথা’ ও ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’ ছবির পর নতুন আরেকটি ছবি ‘এক পৃথিবী প্রেম’ নির্মাণ করতে যাচ্ছেন তিনি । তবে এবার রিয়াজ আর পূর্ণিমা নয়, নতুন ছবিতে নতুন জুটি উপহার দিতে যাচ্ছেন অলিক। তাঁরা হলেন আইরিন ও আসিফ।
পরিচালক এসএ হক অলিক সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানালেন , আইরিন ও আসিফ আলাদাভাবে ছবিতে অভিনয় করলেও জুটি হয়ে ‘এক পৃথিবী প্রেম’ তাঁদের প্রথম ছবি।
প্রতিক্রিয়ায় বললেন, অন্তহীন, আসমুদ্র হিমাচল জীবনের অন্তিম মুহূর্তেও যার বিরতি নেই। অথচ আমাদের স্বার্থপর মনোভাব, আত্মকেন্দ্রিক জীবন বোধ, ছলনাময়, আত্মভোলা সামাজিকতা ক্রমেই মা-বাবার তুলনাহীন ভালোবাসার উপলব্ধি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দূর অজানায়। ফলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে সীমাহীন দুর্ভোগ, হতাশ ও অশান্তির বিষকল্প ছড়ানো এখন । আকাশ সংস্কৃতির বদৌলতে আধুনিক সভ্যতার দোহাই দিয়ে একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে ছোট পরিবার। স্বামী-স্ত্রী একটি বা দু’টি সন্তান নিয়ে গঠিত। কী নেই সেখানে। আধুনিক সভ্যতার সকল উপকরণ, ব্যক্তি বিলাসের সকল উত্স। সাজানো-গোছানো ছিমছাম বাসগৃহ, নির্জীব কাগজের ফুলে সাজানো ড্রয়িং রুম। নেই শুধু মায়ের ভালোবাসার কোন উত্স। কারণ আত্মকেন্দ্রিক শহুরে জীবনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মা অনুপস্থিত।মুলত এই ছবির মাধ্যমে দর্শকের কাছে সেই ম্যাসেজ পৌছাতে চান তিনি ।
এদিকে এক পৃথিবী প্রেম’ ছবিতে একসাথে এত গুণী শিল্পীদের সাথে অভিনয়ের জন্য বেশ উচ্ছ্বসিত আইরিন ও আসিফ । সিনেমায় অভিনয় নিয়ে আইরিন বলেন, ‘র্যাম্প মডেলিং থেকে আমি অভিনয়ে এসেছি। এরপর চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করা হয়েছে। আমি চলচ্চিত্রে নিয়মিত হতে চেয়েছি। “এক পৃথিবী প্রেম” তারই ধারাবাহিকতা বলা যায়। অলিক ভাইয়ের আগের দুটি ছবি দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। আমার আশা, এ ছবিটিও দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। ছবির গল্পটিও সামাজিক পটপরিবর্তনের ধারায় তাই আমার কাছে দারুণ লেগেছে।’অন্যদিকে আসিফ বললেন, ‘চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে এস এক অলিক তাঁর আগের ছবিগুলোর মধ্য দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন। তাঁর পরিচালিত ছবি দুটি সবাই দারুণভাবে পছন্দ করেছেন। তাঁর পরিচালনায় নির্মিত নতুন ছবিতে কাজ করতে পেরে স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে। সুত্র : সময়ের কন্ঠসর

Comments
Post a Comment