এক কাপ চা এই সিনেমা দিয়ে প্রযোযক খাতায় নাম লিখিয়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস।

অবশেষে প্রযোজকের খাতায় নাম লিখিয়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস, আর নাম লিখিয়েই প্রথম দফায় অতি উতসাহ দেখাতে গিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন একসময়ের জনপ্রিয় এই নায়ক। ছবির নাম দিয়েছেন ‘এক কাপ চা’ সিনে পাড়ায় গুঞ্জন আছে  ফেরদৌসের এই ‘এক কাপ চা’ বানাতে ও তা দর্শকদের মাঝে পরিবেশন করতে সময় লাগেছে প্রায় পাঁচ বছর! পাঁচ বছর পরে অনেক কাঠখড় পুরিয়ে গতকাল শুক্রবার ‘এক কাপ চা’ ছবিটির শুভ মুক্তি হলো।
একই দিনে তার অভিনীত ‘চার অক্ষরে ভালোবাসা’ ছবিটিও মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু সেই ছবিটি নিয়ে ফেরদৌস কোথাও মিডিয়াতে কোন প্রচারণায় অংশ নেননি।
‘এক কাপ চা’ ছবির মুক্তির দিনই আরও একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন ফেরদৌস। আর তা হল গতকাল বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে মধ্যেকার ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন হঠাৎ কমেন্ট্রিবক্সে ফেরদৌসকে দেখা যায়। ছবিটির প্রচারের উদ্দেশ্যেই মূলত কমেন্ট্রিবক্সে আগমন ঘটেছিল তার। কিছুক্ষণের জন্য তিনি ধারাভাষ্যকার হয়ে যান সেসময়। অবশ্য একবারও তিনি ক্রিকেটীয় কোনো কথা বলেননি ।
কমেন্ট্রি বক্সে ফেরদৌসের বক্তব্য
শুধুমাত্র তার ছবির প্রচারের উদ্দেশ্যেই বাক্য ব্যয় করেছেন বড় পর্দার এই তারকা। খেলা চলাকালীন কমেন্ট্রিবক্সে ফেরদৌসের এই অভিনব প্রচারণা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। আর তা হল ফেরদৌস এর ‘এক কাপ চা’ ছবির প্রচারণার জন্য তার সাথে কি কোন চুক্তি করেছে বিসিবি? ফেরদৌস এর এই ছবিটি তো ক্রিকেট খেলা নিয়ে নয় যে মানুষকে দেশ প্রেম কিংবা ক্রিকেট খেলতে উদ্বুদ্ধ করবে। এক কাপ চা ছবিটি তো একটি প্রেমের ছবি। ক্রিকেটের সাথে এই ছবির সম্পর্ক কোথায়? যদি তাই না হয়ে থাকে তবে একই দিনে মুক্তি প্রাপ্ত ‘চার অক্ষরে ভালোবাসা’ ছবিটি কি অন্যায় করেছে যে বিসিবি তাদেরকে ছবির প্রচারণার একটু সুযোগ দিলোনা? এই প্রশ্নটি এখন মিডিয়া অঙ্গনের মানুষের মুখে মুখে। ফেরদৌসের এমন সব কাণ্ড দেখে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা বলছেন, ‘ফেরদৌস যখন ঢাকার ছবিতে দর্শকপ্রিয় নায়ক ছিলেন তখন কলকাতার ছবি করার জন্য পাড়ি জমান সেখানে। দেশীয় ছবি ও দর্শকদের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে ছিলেন তিনি।
ছবিটির দুই নায়িকা একজন হলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমি আরেকজন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ফেরদৌসের প্রিয় মানুষ ঋতুপর্ণা। ছবিটিতে বিভিন্ন চরিত্রে আরো অভিনয় করেছেন নায়ক রাজ রাজ্জাক, হুমায়ন ফরিদী, আলমগীর, ইমন, নিপুণ, বিশেষ একটি চরিত্রে শাকিব খান সহ একঝাক তারকা। এক কথায় বলতে গেলে ছবির প্রচারণায় আওয়াজ তুলতে তিনি কম চেষ্টা করেননি।
ফেরদৌসের এমন আচরনে  ‘চার অক্ষরে ভালোবাসা’ ছবির প্রযোজনা সংস্থা থেকে জানানো হয়, ‘ফেরদৌসের এমন আচরণে আমরা খুবই মর্মাহত। তাকে ছবিতে নিয়েছিলাম অনেক আশা করে। একটি ছবি কখনো প্রযোজকের একার হয়না। শিল্পীরাই ছবির মূল শক্তি। কিন্তু ফেরদৌস নিজের ছবির প্রচারণায় সর্বদা ব্যস্ত থাকলেও মনের ভুলেও কোন মিডিয়াকে বলছেন না যে ‘চার অক্ষরে ভালোবাসা’ ছবিটি তারও।‘
একটি শীর্ষ বিনোদন পত্রিকার জরিপ মতে, ফেরদৌস কলকাতায় স্বল্প বাজেটের কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন,  এরপর নায়কের ভাইয়ের চরিত্র ও একাধিক সাইড চরিত্রে অভিনয় করে বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে নিজের জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন ব্যাপকভাবে। যার দরুন বর্তমানে তাকে নায়ক করে পরিচালক-প্রযোজকরা ছবি নির্মাণে সাহস পান না।‘ এই যখন অবস্থা ফেরদৌস তার ‘এক কাপ চা’ ছবির মাধ্যমে দর্শকদের কাছে আসার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
তবে সমালোচনা যতই হোক ছবিটির ট্রেইলর ইউটিউবে দেখে এবং প্রথমদিনেই সিনেমা হলে দেখার পর দর্শকের দৃষ্টিতে সিনেমার চিত্রায়ন, দৃশ্যপট, কলাকুশলী এবং একঝাক সুনামধন্য অভিনয়শিল্পীর অভিনয় মুগ্ধই করেছে অনেককে । এখন দেখার বিষয় ফেরদৌসের এই সব চেষ্টা কতোটুকু কাজে আসে তা জানার জন্য আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

Comments