নিষিদ্ধ না হলে এবারের বিশ্বকাপেও হয়তো দেখা যেত মোহাম্মদ আশরাফুলকে। কিন্তু সেটা আর সম্ভব নয়। যদিও নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল টপকে স্বপ্ন দেখছেন ক্রিকেটে ফেরার। তবে সেটা ঘরোয়া ক্রিকেট, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নয়। তারপরও সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ানের কীর্তিগুলো ভুলে থাকার মতো নয়। বাংলাদেশকে বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন, যা আজীবন স্মরণ করবেন এদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করায় সব ধরনের ক্রিকেটে এখন ৫ বছর নিষিদ্ধ আশরাফুল।
অথচ তিন তিনটি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড রয়েছে আশরাফুলের। সেই আশরাফুল তার অভিজ্ঞতা দিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপের সেরা ১৫ নির্বাচন করেছেন। যেখানে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন অভিজ্ঞতাকে। অবশ্য চমকও রয়েছে তার স্কোয়াডে। অভিজ্ঞ বলে জায়গা দিয়েছেন বাঁ হাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক রাজকে এবং ফর্মে রয়েছেন বলে চমক দিয়েছেন লিটন কুমার দাসকে দলভুক্ত করে।
তিন বিশ্বকাপে মোট ১৬ ম্যাচ খেলেছেন আশরাফুল। রান করেছেন প্রায় ২৫ গড়ে ২৯৯। হাফসেঞ্চুরি দুটি। যার একটি ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। তার করা ৮৭ রানই বাংলাদেশকে অবিশ্বাস্য জয় উপহার দিয়েছিল প্রোটিয়াসদের বিপক্ষে। যা বাংলাদেশের সেরা জয়গুলোর একটি। আশরাফুল তার মেধা খাটিয়ে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রেখেছেন তিন ওপেনার।
তামিম ইকবালকে ফিফটি-ফিফটি ধরেছেন তিনি, ‘তামিম হাঁটুর ইনজুরি সারাতে এখন অস্ট্রেলিয়ায়। যদি তিনি ফিট থাকেন, তাহলে অটোমেটিক চয়েজ। আর যদি না থাকেন, তাহলে শামসুর রহমান আমার পছন্দ। শামসুর সাইড স্ট্রোক ভালো খেলেন। আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয়। তৃতীয় ওপেনার লিটন কুমার। তরুণ ক্রিকেটার। রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। আমি মনে করি বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নিয়ে ভবিষ্যতের ভিত তৈরি করে দেওয়া উচিত তার।’
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনের বিবেচনায় দিন কয়েক আগে স্কোয়াডে চার পেসার নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন সাবেক অধিনায়কও, ‘অস্ট্রেলিয়ার উইকেটগুলো হার্ড ও বাউন্সি। নিউজিল্যান্ডের উইকেটগুলোতে মুভমেন্ট বেশি। এসব বিবেচনায় চার পেসার নেওয়াই উচিত। জেুনইন পেসার হলে ভালো।’ চার পেসার নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অভিজ্ঞতা ও গতিকে প্রাধান্য দিয়েছেন, ‘মাশরাফি দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। সে একজন ম্যাচ উইনার।
দারুণ বোলিং করছেন এখন। টিম ম্যান হিসেবে অসাধারণ। তার সঙ্গে বাকি তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন ও শফিউল ইসলাম। তাসকিনের বলে বাউন্স ও গতি আছে। রুবেল অভিজ্ঞ এবং শফিউল সুইং বোলার।’ মিডল অর্ডারে সাকিব, মুশফিক ও মাহামুদুল্লাহর সঙ্গী হিসেবে আশরাফুলের পছন্দ তরুণ সাব্বির রহমান রুম্মন ও নাসির হোসেন। সাব্বির ভালো খেলেছেন জিম্বাবুয়ে সিরিজে। নাসির ফর্মে ফিরেছেন।’
ব্যাটিং ও পেসার বোলার নির্বাচনে খুব বেশি সমস্যা নেই নির্বাচক প্যানেলের। কিন্তু সাকিবের সঙ্গী নির্বাচনে যথেষ্ট কাটাছেঁড়া করতে হচ্ছে ফারুক গংদের। তিনজন স্পিনার থাকবেন স্কোয়াডে এমন ইঙ্গিত আগেই দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। সাকিবের সঙ্গী হিসেবে সবার পছন্দ তাইজুল। টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত খেলা তাইজুল অভিষেক ওয়ানডেতেই হ্যাটট্রিক করে চমকে দিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বকে। টার্ন আছে বলে তাইজুলকে পছন্দ আশরাফুলের, ‘সাকিবের সঙ্গী হিসেবে আমার দ্বিতীয় পছন্দ তাইজুল। তার বলে জায়গা ভালো। টার্নও রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে সে ভালো করবে।’ তৃতীয় স্পিনারের জায়গায় ফাইট করছেন দুটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞ রাজ্জাক, আরাফাত সানি ও লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন।
তৃতীয় স্পিনার বাছাইয়ে সাবেক অধিনায়কের পছন্দ অভিজ্ঞতা. ‘আরাফাত খুব ভালো বোলার। কিন্তু তার সাফল্য শুধু ঘরের মাঠে। অন্যদিকে রাজ্জাক অনেক অভিজ্ঞ। দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। চাপ কিভাবে সামাল দিতে হয়, তা তিনি খুব ভালোভাবে জানেন। এসব বিবেচনা করেই আমি রাজ্জাককে রেখেছি।’
আশরাফুলের ১৫
তামিম ইকবাল/শামসুর রহমান শুভ, এনামুল হক বিজয়, মুমিনুল হক সৌরভ, মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান রুম্মন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও রুবেল হোসেন, লিটন কুমার দাস, আব্দুর রাজ্জাক রাজ, নাসির হোসেন, শফিউল ইসলাম
সুত্র: বিডি২৪লাইভ.কম
Comments
Post a Comment