বিবিসি সংলাপ: ‘খালেদা গ্রেফতার হলে কি পরিস্থিতি হয়, বলা কঠিন: আলোচনার বিকল্প নেই’।


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে দেশের পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা বলা কঠিন। তাকে গ্রেফতার করলেই চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন হবে না। বরং বিবাদমান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা আলোচনায় বসে সংকটের সমাধান করা উচিত। এর বিকল্প নেই। বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপ অনুষ্ঠানে বেশিরভাগ অতিথি ও দর্শক এ মত দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের ১০১তম পর্ব হয়। এতে প্যানেল সদস্য ছিলেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল অব. মাহবুবুর রহমান, বেসরকারি সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ লিগাল এইড অ্যান্ড সার্ভিস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ’র নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন। অনুষ্ঠানে দর্শকদের প্রথম প্রশ্ন ছিল- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের জন্য জাতীয় সংসদে দাবী তুলেছেন আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতা। খালেদা জিয়াকে যদি সত্যিই গ্রেফতার করা হয়, তাহলে পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে? উত্তরে মাহবুবুর রহমান বলেন, “এটা একটা কঠিন এবং হঠকারী সিদ্ধান্ত হবে। এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হলে দেশকে খাদের শেষ প্রান্তে ঠেলে দেয়া হবে।” তিনি আরো বলেন, “যেসব সহিসংতার দায় বিএনপিকে দেয়া হচ্ছে, সেগুলো বিএনপি করছে না।” সারা হোসেন বলেন, “খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। তবে সহিসংতার সঙ্গে কারা দায়ী সেটা খুঁজে বের করতে হবে।” তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার বিষয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে সেগুলোর তদন্তটা খুবই জরুরি। নয়তো সংসদ বা সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে গ্রেফতার বিষয়ে বলা হলে, রাজনীতিকরণ করা হলে দেশের আইন ও শাসনব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থাটা চলে যায়।” শাহীন আনাম মনে করেন খালেদা জিয়ার বিষয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে সেগুলোর মাধ্যমে হয়তো তাকে গ্রেফতারের একটি ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এটি কতটুকু লাভ হবে তা জানি না। এভাবে শুধু সংসদে গ্রেফতারের কথা বলে দিলেই হবে না। এটি আইন ও শাসনব্যবস্থার পরিপন্থী। দোষ ঠিক করা ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা যায় না। তবে বিভিন্ন সহিংসতার সঙ্গে কারা দায়ী তা ভালো করে তদন্ত করে দেখতে হবে।” তিনি বলেন, “তাকে (খালেদা জিয়া) গ্রেফতারের পর দেশের পরিস্থিতি কী হয়, তা আগে থেকে বলা কঠিন। সবার লক্ষ্য সংকটের জায়গা থেকে সরে আসি। দেশে এতোগুলো মানুষ মারা যাবে তা কে জানতো?” তবে এসব মতামতের সঙ্গে এক নন শাজাহান খান। তিনি বলেন, “বিরোধী দল জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে কাজ করে এমন কখনও দেখিনি। খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে না তা বলছি না। কারা এসব সহিংসতা করছে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে রানা প্লাজার মতো দেশ ধসে পড়বে না। ওনাকে সাবধান করে দেয়া হচ্ছে যেন উনি এগুলো আর না করেন।” অনুষ্ঠানে দর্শকদের আরেকটি প্রশ্ন ছিল- বিবাদমান রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি কার্যকরী সংলাপ ছাড়া কি চলতি রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা যাবে? উত্তরে মাহবুবুর রহমান বলেন, “সংলাপ ছাড়া সমাধান অসম্ভব। আমরা এখন সংলাপের জন্য প্রস্তুত।” সারা হোসেন বলেন, “আমাদের সংবিধানের কোথাও বলা নেই, যে দমননীতিতে গেলে সমাধান আসবে। আদর্শের বিপক্ষের শক্তির সঙ্গে সংলাপ না করতে চাইলেও, দেশের যেসব মানুষ নির্বাচনের পক্ষে আছেন তাদের সঙ্গে সংলাপ করতে বাধা কোথায়?” শাজাহান খান বলেন, “এখানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আদর্শের লড়াই চলছে। আদর্শের লড়াইয়ে সংলাপের কোনো জায়গা নেই। জয়-পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে এ আদর্শের লড়াইয়ের সমাধান আসবে।” শাহীন আনাম বলেন, “সংলাপ দরকার। তার আগে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে চলমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।” এ পর্বে বেশির ভাগ দর্শক সংলাপের পক্ষে মত দেন। অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন। বিবিসি মিডিয়াঅ্যাকশন এবং বিবিসি বাংলার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। এতে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত বিষয়েদর্শকরা সরাসরি প্যানেল সদস্যেদর কাছে প্রশ্ন বা মতামত প্রকাশ করতে পারেন। ‘বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপ’ অনুষ্ঠানটি বিবিসি বাংলায় প্রচার হয় প্রতি রোববার রাত ৮টায় এবং পুনঃপ্রচার হয় মঙ্গলবার রাত আটটায়। এছাড়া চ্যানেল আইয়ে অনুষ্ঠানটি প্রচার হয় সোমবার রাত সাতটা ৫০ মিনিটে এবং পুনঃপ্রচার হয় প্রতি মঙ্গলবার সকাল পাঁচটা এবং দুপুর তিনটা পাঁচ মিনিটে।সূত্র: আমারদেশ অনলাইন

Comments