শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে জাতিসংঘের চিঠি।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তা দ্রুত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত এবং শান্তিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ফ্যাক্সবার্তা পাঠিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র ইনকিলাবকে জানান, এ সংক্রান্ত একটি ফ্যাক্সবার্তা গতকাল খালেদা জিয়ার হাতে পৌঁছেছে। অনুরূপ একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও প্রেরণ করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার কাছে প্রেরিত ওই ফ্যাক্সে উল্লেখ করা হয়েছে বলে বিএনপির ওই দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন। 
উল্লেখ্য, তারানকো বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই অবহিত রয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে বড় দুই দলের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছিলেন তিনি। নানামুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তখন তার সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। ২০ দলীয় জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৫৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে ২০ দলীয় জোটের কর্মসূচি পালনে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে তারানকোকে পুনরায় দায়িত্ব দিয়েছেন। জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তারা সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগী। ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের সাথে বৈঠক করেছেন তারানকো। সেখানে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একাধিকবার উদ্বেগও প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের রাষ্ট্রদূত খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করেছেন। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকে রাষ্ট্রদূত জানতে চান বর্তমান সমস্যা সমাধান কীভাবে দেখছে বিএনপি। জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং তারপর নতুন জাতীয় নির্বাচন বর্তমান সঙ্কটের সমাধান করতে পারে। এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎকালে তাকে অনুরূপ কথা জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।

Comments