অনড় খালেদা জিয়া।

★অনড় খালেদা জিয়া, হঠাৎ করে মোড়
ঘুরছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি
হঠাৎ করে রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোড়
ঘুরে যাচ্ছে । বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম
খালেদা জিয়ার অনড় অবস্থানের
কারণে সরকার কোনো পরিকল্পনায় স্থির
থাকতে পারছে না। সরকারের
ভেতরে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আর অস্থিরতা বাড়ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেফতার করা হবে;
না গুলশান কার্যালয় থেকে বের করে বাসায়
পাঠানো হবে ; না কার্যালয়
তল্লাশি করে অন্য সবাইকে বের
করে দেয়া হবে তা নিয়ে শেষ মুহুর্তে চরম
সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছেন সরকারের
নীতি নির্ধারকরা।
বিশেষ করে খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের
খবরে রাজধানীসহ দেশজুড়ে নতুন
করে অস্থিরতা শুরু হওয়া, ভারতের পররাষ্ট্র
সচিবের মনোভাব এবং রাতে খালেদা জিয়ার
সাথে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয়
ইউনিয়নসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর
ক’টনীতিকদের বৈঠকের
খবরে পরিস্থিতি সামাল দেয়া এখন সরকারের
জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।
এর আগে খালেদা জিয়ার অনড় অবস্থানের
কারনে সরকারের নানা কৌশল বারবার ব্যর্থ
হয়। সর্বশেষ আদালতের
গ্রেফতারি পরোয়ানাকে কাজে লাগিয়ে খালেদা জিয়াকে গুলশান
কার্যালয় থেকে বের করার কৌশল নেয়
সরকার। সরকারের শীর্ষ
কর্তাব্যক্তিরা মনে করছিলেন, এই
পরোয়ানার কারণে খালেদা জিয়া নিজেই ওই
অফিস থেকে বের হয়ে আদালতে জামিন
চাইতে বাধ্য হবেন। কিন্তু
খালেদা জিয়া কার্যালয় থেকে বের
না হওয়ায় সরকারের এ কৌশলও ব্যর্থ হয়।
এমন প্রেক্ষাপটে বুধবার সরকার কঠোর
অবস্থানে যাবার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত
থাকলেও শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তা চূড়ান্ত
করতে পারেননি নীতি নির্ধারকরা।
বরং পশ্চিমা কূটনীতিকদের
মাধ্যমে রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়াসহ
পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার বিষয়ে বিভিন্ন
পর্যায়ে আলোচনা হয়।
পশ্চিমা কূটনীতিকরাও খালেদা জিয়ার
সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে সরকারের সবুজ
সংকেতে গুলশান কার্যালয়ে যান।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়,
একদিকে খালেদা জিয়ার
বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং অন্যদিকে পরবর্তিত
রাজনৈতিক ও ক’টনৈতিক
পরিস্থিতি নিয়ে বিপাকে পড়েছে সরকার।
আওয়ামী লীগ ও সরকারের
কট্ররপন্থী নেতা ও
মন্ত্রীরা খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার
করে কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে চলমান
সঙ্কটের সমাধান চান। কিন্তু অপেক্ষাকৃত
মধ্যমপন্থী ও সিনিয়ররা মনে করছেন, এর
মাধ্যমে আসলে সঙ্কটের চূড়ান্ত সমাধান
না হয়ে আরো জটিল হতে পারে।

Comments